সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য ফি দিতে হচ্ছে না। অর্থ বরাদ্দ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার ‘ অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষায় নেওয়া হবে পরীক্ষার ফি ’ শিরোনামে প্রথম আলো তে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন আজ প্রথম আলো কে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক দ্রুত অবহিত করবেন। মাহ্দী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল (স্কুলে খাবার) কর্মসূচি চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীবান্ধব আরও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতে পরিবারগুলোর ব্যয় যতটা সম্ভব কমানোই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তারই অংশ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এর আগে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকার কারণে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন গতকাল সোমবার প্রথম আলো কে বলেছিলেন, বরাদ্দ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপাতত সরকারিভাবে পরীক্ষার খরচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা নিতেই হবে, আর এর জন্য টাকা দরকার। কিন্তু এখন সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ সমস্যা থাকবে না, তখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ফি নেওয়া হবে না।’ ফি নেওয়ার বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান সচিব। তবে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলেন, নির্ধারিত ফি টাকার অঙ্কে খুব বেশি না হলেও বিষয়টি নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি নেওয়া হলে তা অবৈতনিক শিক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। বছরে সাধারণত তিনটি পরীক্ষা—ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক অনুষ্ঠিত হয়।
Search
Congressional trades, bills, prediction markets, hearings, and intelligence signals. Signal search supports: AND OR "exact phrase" -exclude
1,941 signals for Bangladesh
Page 43 of 78