আর্জেন্টিনা ৩-০ আলজেরিয়া কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে সবুজ চাদরে সাজানো মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। অভ্যাগত অতিথিরাও (দর্শক) বসেছিলেন ৭৭ হাজার আসনে। অপেক্ষা ছিল কিংবদন্তির মঞ্চে পদার্পণের। সময়মতোই তিনি এলেন। আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া দল মাঠে ঢোকার সময় ক্যামেরায় দেখা গেল, কেঁদে ফেললেন এক তরুণী। গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি। কিংবদন্তির শেষের কবিতার শুরুতে কান্নাভেজা তর্পণ যেন গোটা পৃথিবীর তরফ থেকে দেওয়া মানপত্র। আস্তিন থেকে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক বের করে ‘কবি’ তাঁর যথার্থ প্রতিদানই দিলেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনার শুরুটাও হলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মতো। ফুটবলের সেই ‘কবি’র নাম লিওনেল মেসি! বিশ্বকাপে মেসির শেষের কবিতা শুরুর আগে পরিবেশটা একটু ভারী হয়ে এসেছিল। অনেকের স্মৃতির অ্যালবামের ফ্রেম থেকে একে একে বেরিয়ে এসেছে গত ২০ বছরের কতশত ছবি! সবাই জানেন, বিশ্বকাপে কিংবদন্তির ফুটবল-কবিতার শেষটা শুরুর মঞ্চ এটা। গ্যালারিতে প্রচুর আকাশি-সাদার ছটা ও হইহুল্লোড়ের সুর ভাসলেও ভেতরে-ভেতরে বিচ্ছেদি মরমি টান। কিন্তু সেই কিংবদন্তি, মানে লিওনেল মেসি একটু দুষ্টু প্রকৃতির। শেষের কবিতার খাতা ফেলে খেলার শুরুতেই পা দুটো একটু এদিক–সেদিক করে মেসি বলতে লাগলেন তাঁর শুরুর ‘কবিতা’; সেই যে যৌবনের দিনগুলোতে যেমন ছিলেন, সেই সব আগুনে ‘কবিতা’র দু-একটি উছলে বের হলো। দ্বিতীয় গোলের পর সতীর্থদের উদ্যাপনের মধ্যমণি মেসি আক্ষরিক অর্থে না হলেও একদম প্রকৃত ‘কবি’দের মতোই মেসি যেন মুহূর্তটা বুঝে নিয়েছিলেন। এই বিশ্বকাপের পরই তাঁকে আর এই আসরে না দেখার দুঃখে কারও এতটুকু মন খারাপ হতে দেবেন না!