ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে পাঠানো এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। যেসব রোগী এই মুহূর্তে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, লাইসেন্স বাতিলের পর এখন তাঁরা কী করবেন—এই প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালে কোনো রোগীর চিকিৎসা নিতে যাওয়া উচিত নয়। যাঁরা চিকিৎসা নিচ্ছেন, আমরা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি, সেসব রোগীকে যেন নিকটস্থ উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাদের যদি কোনো সহায়তা দরকার হয়, তারা যেন তা আমাদের জানায়।’ ছয় শিশুর মৃত্যু নিয়ে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের জবাবে সন্তুষ্ট নই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে আজ আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ)। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।’ আদ্-দ্বীন হাসপাতালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানোর পর হাসপাতালটিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ১১ জুন চিঠিটির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, ২ বড় মগবাজার, ঢাকা-এর কারণ দর্শানোর জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।’ চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুন এই হাসপাতালটির ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ৭ জুন বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানোর পর হাসপাতালটি থেকে অনেক রোগীকে চলে যেতে দেখা যায়। ১১ জুন সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কারণ দর্শানোর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করলে এই সময়সীমা ৯ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারীকে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘৯ জুন আপনার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো। এই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।’ আদ্-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু এবং রাষ্ট্রের দায় আদ্-দ্বীনের বক্তব্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে। সেখানে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার আগপর্যন্ত রোগীদের স্বার্থে হাসপাতালের নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল করার সময় দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রত্যাশা করে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার আগপর্যন্ত শুধু রোগীদের স্বার্থে হাসপাতালের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকার আদ্-দ্বীনকে সুযোগ দেবে। বর্তমানে হাসপাতালে ৪১৬ জন রোগী ভর্তি এবং আজ ১১ জুন প্রায় ১ হাজার রোগীকে বহির্বিভাগে সেবা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। আরও বলা হয়, এ ছাড়া এনআইসিইউতে ৬০ নবজাতক শিশু, আইসিইউতে ২০ জন এবং সিসিইউতে ৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।