অন্ধকারটা খুবই ঘন গভীর হয়ে বিস্তার লাভ করেছিল, চারপাশে। বিশেষত, পূর্ব বাংলায় ঢাকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। কী রকম সেটা? ইতিহাস থেকে এ ব্যাপারে একটি নজির পেশ করা ভালো। ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সময় ঢাকায় শিক্ষিত মুসলমানের সংখ্যা ছিল অতি নগণ্য। এবং তার একটা বড় অংশ ছিল ঢাকার বাইরে থেকে আগত। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল এই কারণে স্বল্প। এরও অধিকাংশ, ঢাকায় ছিল বহিরাগত। ঢাকায় যারা স্থানীয়, তারা ছিল ‘কুট্টি’। এ নামেই তারা পরিচিত ছিল তখন। শিক্ষার প্রতি কোনো আগ্রহ ছিল না তাদের। কেবল তা–ই নয়, যাতে আগ্রহ তৈরি না হয়, এ জন্য ঢাকার নবাবদের ছিল গোপন প্রবল তৎপরতা। এই দুর্গম ও ভয়ানক আবহে যাঁরা বুদ্ধির মুক্তির কার্যক্রম আরম্ভ করেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ছিলেন তার মধ্যে প্রধান। বাইরে থেকে যদিও তাঁরা কিছু সমর্থন পেয়েছিলেন কিন্তু সে ছিল তখনকার ‘উচ্চশিক্ষিত’ ও ‘উদারপন্থী’ ব্যক্তিদের অভিনন্দনের সম্মান মাত্র! ধরা যাক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬—১৯৩৮), চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭৭—১৯৩৮), মোহিতলাল মজুমদার (১৮৮৮—১৯৫২), রমেশচন্দ্র মজুমদার (১৮৮৮—১৯৮০), সুশীলকুমার দে (১৮৮৯—১৯৬৮), কালিকারঞ্জন কানুনগো (১৮৯৫—১৯৭২), নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১৮৮৮—১৯৪৭), হেমলতা দাস (১৮৬৮—১৯৪৩), লীলা নাগ (১৯০০—১৯৭০) প্রমুখ ব্যক্তির কথা। তাঁদের মধ্যে একমাত্র শরৎচন্দ্রকে বাদ দিলে প্রায় আর সবাই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ‘হিন্দু ভদ্রলোক’!