কনকর্ড বিমানের কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন। শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে আকাশে ডানা মেলা সেই বিখ্যাত যাত্রীবাহী বিমানটি ২০০৩ সালে চিরতরে অবসরে চলে যায়। এর পেছনে মূল কারণ ছিল আকাশছোঁয়া রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং এর তৈরি করা প্রচণ্ড বিকট শব্দ। ১৯৭৬ সাল থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করা কনকর্ড যখন তার সর্বোচ্চ গতি অর্থাৎ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩৫০ মাইল বেগে ছুটত, তখন নিউইয়র্ক থেকে লন্ডনে পৌঁছাতে সময় লাগত তিন ঘণ্টারও কম! কিন্তু মুশকিল হলো, শব্দের চেয়ে জোরে ছুটতে গিয়ে এটি এমন বিকট শব্দ তৈরি করত, যা মাটিতে থাকা মানুষের জন্য রীতিমতো বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই আক্ষেপ ঘোচাতেই নাসা প্রায় এক দশক ধরে এমন এক বিমান তৈরির কাজ করছিল, যা শব্দের চেয়ে দ্রুত ছুটবে, কিন্তু কোনো কান ফাটানো শব্দ তৈরি করবে না। অবশেষে সেই স্বপ্নের এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছেছে নাসা। নাসার পরীক্ষামূলক বিমান এক্স-৫৯ প্রথমবারের মতো সুপারসনিক বা শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে ওড়ার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁয়েছে। গত ৫ জুন, শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস এয়ারফোর্স বেস থেকে উড্ডয়ন করা এই বিমানটি টানা ৮১ মিনিট আকাশে ছিল। নাসার অভিজ্ঞ পাইলট জিম লেস এই ঐতিহাসিক ফ্লাইটে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন। মাটি থেকে ৪৩ হাজার ৪০০ ফুট ওপরে বিমানটি সর্বোচ্চ ৭১৩ মাইল প্রতি ঘণ্টায় ছুটেছে। কনকর্ড বিমান নাসার এই প্রজেক্টের ম্যানেজার ক্যাথি বাম মে মাসের শেষের দিকে এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘সুপারসনিক গতিতে ওড়া এক্স-৫৯ দলের জন্য এক বিশাল অর্জন। বিমানটি যে পরিবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে, ঠিক সেই পরিবেশে এর প্রথম মিশন-কন্ডিশনস ফ্লাইট সম্পন্ন করাটা আমাদের জন্য অনেক অর্থবহ। এখান থেকেই বিমানটিকে যাচাই করার আসল কাজ শুরু হলো।’ বিমান কীভাবে ওড়ে ১৯৭৬ সাল থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করা কনকর্ড যখন তার সর্বোচ্চ গতি অর্থাৎ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩৫০ মাইল বেগে ছুটত, তখন নিউইয়র্ক থেকে লন্ডনে পৌঁছাতে সময় লাগত তিন ঘণ্টারও কম! সুপারসনিক বিমানের পেছনের বিজ্ঞান এখানে বিজ্ঞানের একটি চমৎকার বিষয় লুকিয়ে আছে। সুপারসনিক কথাটার অর্থ আসলে কী?